ফরমালিনের রাজত্ত

ফরমালিন এর রাজত্ত

ফরমালিনের বিষাক্ত ছোবলে অসহায় ঢাকাবাসী।

দেশ জুড়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে গ্রীষ্মকালীন  ছুটি। সেই সাথে রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতেও চলছে গ্রীষ্মকালীন  ছুটি। আর এই ছুটিতে বাড়তি আমেজ যোগ করেছে গ্রীষ্মকালীন ফলমূল । রাজধানীর বাজার গুলোতে আম জাম কাঁঠাল লিচু সহ বিভিন্ন ফল পাওয়া যাচ্ছে। ফল খেতে গিয়ে ফরমালিন খেতে হচ্ছে রাজধানীর মানুষকে। এ বিষয়ে সরকারের তৎপরতা অপ্রতুল। বিভিন্ন সংগঠন এ বিষয়ে জন সচেতনতা তৈরীর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ রকম একটি সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর ৯৫ শতাংশ আমেই রয়েছে ফরমালিন। লিচু ও জাম শতভাগ ফরমালিন মিশ্রিত । ব্যাবসার নামে এ রকম গণবিষাক্ত ফলের আয়োজন দিব্যি চলছে।

পবার ভাষ্যমতে মৌসুমি সব ফলেই রয়েছে কম বেশি ফরমালিনের উপস্থিতি। এ সব ফল খেয়ে ছোট বড় সবাই জটিল ও বিচিত্র সব রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে সরকারের জতীয় সাস্থ্য নীতিতে পরবে মারাত্মক প্রভাব। তাই সময় থাকতে ব্যাবস্থা নিতে হবে। কিন্তু সরকারের সংশিলষ্ঠ সংস্থা লোক দেখানো অভিযান চালানো ছাড়া আর কিছুই করছেনা । অথচ এসব নিয়ে গবেষণা, প্রতিকারের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সংশিলষ্ঠ সংস্থাকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া রয়েছে।

ফরমালিন নামক এই মারাত্তক বিষ কেবল গবেষণাগারে বিভিন্ন নমুনা দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য এবং অন্যান্য গবেষণাগার জন্য আমদানি করা হয়। এই আমদানি গোপনে এবং প্রকাশ্যে উভয় ভাবেই হয়। গোপনে আমদানিকৃত অংশই চলে যায় অসাধু ব্যাবসায়ীর হাতে। যা ব্যবহার করা হয় খাদ্য দ্রব্য দীর্ঘদিন ভাল রাখার জন্য। সাধারন জনগণ না বুঝে এসব কিনে ও খায়। এভাবে দিনের পর দিন ফরমালিন যুক্ত ফল মূল ও তরকারির মাধ্যমে তাদের দেহে  ফরমালিন প্রবেশ করছে, অথচ সরকার এ দিকে কোন নজর দিচ্ছেনা।

এ অবস্থা দূর করতে কেবল ফরমালিনের দাম বাড়িয়ে যে লাভ হবেনা তা স্পষ্ট। তাই এই রাসায়নিক পদার্থ যাতে কেবল বৈধ কাজে বাবহারের জন্য আমদানি করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকেই। এ জন্য উৎসে অতিরিক্ত কর আরোপ করা যায়। একই সাথে এর অবৈধ ব্যাবহার কারীদের আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। একসঙ্গে অনেককে আইনের হাতে সোপর্দ করলে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হবে তাতে করে খাদ্যে বিষ মেশানোর প্রবণতা কমতে পারে। এছাড়া এদেরকে সামাজিকভাবে বয়কট করার মাধ্যমেও এই হার কমানো জায়।

খাদ্যে বিষ মেশানো একটি সামাজিক সমস্যা। এতে স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়। এমনকি তা পরবর্তী প্রজন্মেরও ক্ষতি করে। সামাজিক সুরক্ষার মত  স্বাস্থ্য নিরাপত্তাও জরুরি । তাই সরকারের উচিত এ বিষয়ে আরও কঠোর হওয়া। সেই সাথে এ বিষয়ে প্রচলিত আইনেরও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই এই জাতীয় সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s